মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ১৪ নভেম্বর ২০১৯

সচিব

লোকমান হোসেন মিয়া

আইডি নং- ৫২৫১

জনাব লোকমান হোসেন মিয়া বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (প্রশাসন) ক্যাডারের ১৯৮৬ ব্যাচের একজন কর্মকর্তা। তিনি গত ২৪ অক্টোবর ২০১৯ তারিখ থেকে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ে সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ১৯৬৩ সালে বরিশাল জেলার গৌরনদী উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় হতে ইতিহাস বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেন। চাকরি জীবনে মাঠ পর্যায়ের সকল সেক্টর ও মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দপ্তরসহ ৩০ টি বিভিন্ন পদে চাকরী করেন।

বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ে সচিব হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পূর্বে তিনি বিভাগীয় কমিশনার, খুলনা হিসেবে ২ বছর ০১ মাস ৬ দিন কর্মরত ছিলেন। বিভাগীয় কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, কর্তৃক ঘোষিত ১০টি বিশেষ উদ্যোগের মধ্যে একটি অন্যতম প্রকল্প ‘জমি আছে ঘর নাই” এর আওতায় এ বিভাগে প্রাপ্ত ঘরের মধ্যে অধিকাংশ ঘর জনাব লোকমান হোসেন এর নির্দেশনায় এবং উদ্ভাবনী উদ্যোগে বরাদ্দকৃত ১ লক্ষ টাকার মধ্যেই লবনাক্ততা সহিষ্ণু ও দুর্যোগ প্রতিরোধী সংযুক্ত টয়লেটসহ টিনের পরিবর্তে সেমি পাকা ঘর তৈরি করা হয়েছে। উল্লেখ্য, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সমন্বয়ক (এসডিজি)সহ সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ উক্ত ঘরগুলো পরিদর্শন করেছেন যা সকল মহলে প্রশংসিত হয়েছে। এই অনন্য কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ মহামান্য রাষ্ট্রপতি তাকে “জনপ্রশাসন পদক ২০১৯” প্রদান করেন। জনাব লোকমান কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে খুলনা বিভাগকে মাদক, সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গীবাদ, বাল্যবিবাহ, দুর্নীতিসহ সকল সামাজিক সমস্যা থেকে মুক্ত করতে ১৪৩ টি অভিভাবক/মা সমাবেশসহ বিভিন্ন ধরনের মোটিভেশনাল সভা আয়োজন করেছেন। মাদক পাচারকারীদের বিরুদ্ধে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেয়া ‘মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স’ নীতিকে প্রাধান্য দিয়ে খুলনা সিটি কর্পোরেশনসহ খুলনা, মাগুরা , নড়াইল ও বাগেরহাট জেলাকে মাদকমুক্ত করার নিমিত্ত কাজ করেছেন; যার ফলশ্রুতিতে এ সকল এলাকা অনেকটাই মাদকমুক্ত। খুলনা শহরের প্রাণকেন্দ্রে “খুলনা শিশু হাসপাতাল”কে একটি আধুনিক, মডেল হাসপাতাল হিসেবে উন্নীত করেন জনাব লোকমান।

বিভাগীয় কমিশনার হিসেবে যোগদানের পূর্বে তিনি আইসিটি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পরিচালক, পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ডের মেম্বার(এডমিন) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক হিসেবে ৩ বছরের উর্ধ্বে কর্মরত ছিলেন। এছাড়াও তিনি সিভিল এভিয়েশন অথরিটির পরিচালক, জীবন বীমা কর্পোরেশনের জিএম, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক, নরসিংদি জেলা পরিষদের সচিব, ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলায় ইউএনও, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ডেপুটি ডাইরেক্টর, ঢাকা সিটি করপোরেশনের জোনাল এক্সিকিউটিভ অফিসার, জাতীয় সংসদের হুইপের একান্ত সচিব, নারায়ণগঞ্জ সদর ও আড়াইহাজার উপজেলার সহকারী কমিশনার ভূমিসহ সরকারের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন।

জনাব লোকমান হোসেন মিয়া বুনিয়াদী প্রশিক্ষণ কোর্স, আইন ও প্রশাসন কোর্স, সার্ভে ও সেটেলমেন্ট প্রশিক্ষণ কোর্স, ভূমি প্রশাসন প্রশিক্ষণ কোর্স, বিএমএ প্রশিক্ষণ, এডভান্সড কোর্স অন এ্যাডমিনিস্ট্রেশন এন্ড ডেভেলপমেন্ট কোর্সসহ চাকরির অত্যাবশ্যকীয় সকল প্রশিক্ষণ সমাপ্ত করেন। বিদেশে বিভিন্ন পেশাগত প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সভা সেমিনারে অংশগ্রহণ করেছেন। ২০১৭ সালে সৌদি আরবের মক্কায় হজ ব্যবস্থাপনার সার্বিক কার্জক্রম দেখাশুনা, সমন্বয় এবং হজযাত্রীদের সেবা প্রদানের নিমিত্ত ‘হজ প্রশাসনিক দলে’ সাফল্যের সাথে দায়িত্ব পালন করেন যা সকল মহলে প্রশংসিত হয়েছে। এছাড়া সরকারি দাপ্তরিক ও প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত প্রয়োজনে তিনি দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাজ্য, চীন, নিউজিল্যান্ড, ফিনল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড, ভারত, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, সুইডেন, নেদারল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানী, ও আমেরিকাসহ বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করেছেন।

জনাব লোকমান ব্যক্তিগতও পারিবারিক জীবনে সফল একজন বাবা। তিনি দুই ছেলে এবং এক কন্যা সন্তানের জনক। তাঁর বড় ছেলে সিদরাতুল মুনতাহা আকাশ বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়(বুয়েট) থেকে প্রথম শ্রেণিতে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে এখন বুয়েটেই শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেছেন। ছোট ছেলে জাওয়াতা আফনান অমিয় ২০১৯ সালে বুয়েটে ভর্তি হয়েছে এবং সর্ব কনিষ্ঠ মেয়ে আয়নানি তাজরিয়ান অর্পিতা ৯ম শ্রেণিতে ৬০০ শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রথম স্থান অধিকার করে বিজ্ঞান বিষয়ে অধ্যয়ন করছে । জনাব লোকমান এর সকল সৃজনশীল কাজ এবং এই শান্তিময় পারিবারিক জীবনের প্রধানতম অনুপ্রেরণা তার সহধর্মিনী খোদেজা বেগম।



Share with :

Facebook Facebook