মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৮

বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ড

.       পটভূমি

ঐতিহ্যবাহী রেশম শিল্পের ব্যাপক সম্প্রসারণ ও উন্নয়নের লক্ষ্যে ১৯৭৭ সালের ২৮ ডিসেম্বর ৬২ নং অধ্যাদেশের মাধ্যমে বাংলাদেশ রেশম বোর্ড প্রতিষ্ঠিত হয়। চেয়ারম্যান ছিলেন বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র বিমোচন ও আর্থ সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটানোই এ সংস্থার অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বোর্ড এ শিল্পের উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বর্তমানে দেশে এ শিল্পের সংগে জড়িত লোকসংখ্যা প্রায় ৬.৫০ লক্ষ। বোর্ড সৃষ্টির পূর্বে এ সংখ্যা ছিল মাত্র ৩৫ হাজার। জড়িত জনবলের শতকরা প্রায় ৮০ ভাগই গ্রামীণ দুঃস্থ নারী।

গত ০৭/০৩/২০১৩ ইং তারিখে ১৩ নং আইনবলে বাংলাদেশ রেশম বোর্ড, বাংলাদেশ রেশম গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনষ্টিটিউট এবং বাংলাদেশ সিল্ক ফাউন্ডেশন এই ৩টি পৃথক সংস্থা একীভূত করে বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ড প্রতিষ্ঠা করা হয়। পুনঃ প্রতিষ্ঠিত সংস্থার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার পদবী চেয়ারম্যানের পরিবর্তে মহাপরিচালক করা হয়েছে। বোর্ডের সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য মোট ৪টি বিভাগ রয়েছে; যথাঃ- (১) প্রশাসন ও সংস্থাপন বিভাগ, (২) অর্থ ও পরিকল্পনা বিভাগ, (৩) সম্প্রসারণ ও প্রেষণা বিভাগ এবং (৪) উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ বিভাগ। এ ছাড়াও গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনষ্টিটিউটসহ এমআইএস সেল, নিরীক্ষা শাখা, জনসংযোগ শাখা সরাসরি মহাপরিচালকের অধীনে ন্যাস্ত রয়েছে। বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডের নুতন অর্গানোগ্রাম প্রণয়নের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

২. বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডের ভিশন ও মিশন:

ভিশন : দেশে রেশম চাষ ও শিল্পের সম্প্র্রসারণ ও উন্নয়নের মাধ্যমে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর দারিদ্র্য বিমোচন;

মিশন :

(ক)  লাগসই প্রযুক্তি উদ্ভাবনের মাধ্যমে কাঁচা রেশমের উৎপাদন বৃদ্ধি;

(খ)  গবেষণালদ্ধ উচ্চ ফলনসীল তুঁত ও রেশম কীটের জাত প্রবর্তন;

(গ)  রেশম সেক্টরে দক্ষ ও কারিগরি জনশক্তি সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রশিক্ষণ প্রদান;

(ঘ)  কাঁচা রেশম ও রেশম পণ্যের মান উন্নয়ন ও বিপণনের ব্যবস্থাকরণ;

(ঙ)  রেশম চাষ সম্প্রসারণে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, মোটিভেশন ও তদারকি কাজ জোরদারকরণ।

. বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডের সম্প্রসারণ নেটওয়ার্কস :

অফিস/স্থাপনার নাম

সংখ্যা

অবস্থান

কার্যক্রম

বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ড প্রধান কার্যালয়

রাজশাহী।

 

জার্মপ্লাজম মেইনটেন্যান্স সেন্টার

চন্দ্রঘোনা (রাংগামাটি) ও সাঁকোয়া (পঞ্চগড়)।

 

আঞ্চলিক রেশম সম্প্রসারণ কার্যালয়

রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা, যশোর ও রাংগামাটি।

 

জেলা রেশম সম্প্রসারণ কার্যালয়

ভোলাহাট, ঠাকুরগাঁও, পাবনা, ময়মনসিংহ, বগুড়া, কুমিল্লা, রাজবাড়ি।

 

রেশম বীজাগার পি৩, পি২, পি১

১১

রাজশাহী,চাঁপাইনবাবগঞ্জ,ভোলাহাট, মীরগঞ্জ, ঈশ্বরদী, ঝিনাইদহ, বগুড়া, রংপুর, দিনাজপুর, কোনাবাড়ি এবং ময়নামতি।

 

তুঁতবাগান

ব্রাক্ষ্ণনভিটা, ঠান্ডিরাম, সাদামহল, রত্নাই, সনকা, রেইচ্যা ও রুপসীপাড়া।

 

গ্রেনেজ

ময়মনসিংহ ও ভোলাহাট।

 

উপজেলা রেশম সম্প্রসারণ কার্যালয়

৪০

বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা সদরে অবস্থিত।

 

রেশম সম্প্রসারণ পরিদর্শকের কার্যালয়

১৬৪

বিভিন্ন ইউনিয়ন ও গ্রামে অবস্থিত।

 

চাকী রিয়ারিং সেন্টার

২৭

বিভিন্ন ইউনিয়ন ও গ্রামে অবস্থিত।

 

রেশম পল্লী

২৩

বিভিন্ন ইউনিয়ন ও গ্রামে অবস্থিত।

 

মিনিফিলেচার কেন্দ্র

১২

ভোলাহাট (চাঁপাইনবাবগঞ্জ), মীরগঞ্জ (রাজশাহী), দৌলতপুর (কুষ্টিয়া), বাগবাটি (সিরাজগঞ্জ), বড়বাড়ি (লালমনিরহাট), জয়পুরহাট, রানীসংকৈল (ঠাকুরগাঁও), কোনাবাড়ি (গাজীপুর), ঝিনাইদহ, চাটমোহর (পাবনা), ময়মনসিংহ ও লামা (বান্দরবান)।

 

রেশম কারখানা

রাজশাহী ও ঠাকুরগাঁও। বর্তমানে রেশম কারখানা দু’টি সরকারি সিদ্ধান্তে বন্ধ অবস্থায় প্রাইভেটাইজেশন কমিশনে ন্যাস্ত রয়েছে।

 

 

বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবের সভাপতিত্বে বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় সভা।

৪. বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডের মূল কার্যক্রম:

১.  রেশম বিষয়ক বৈজ্ঞানিক, কারিগরি ও আর্থিক গবেষণা ও প্রশিক্ষণের জন্য উদ্যোগ সহায়তা এবং উৎসাহ প্রদান;

২.  গবেষণা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রাপ্ত ফলাফলসমূহ মাঠ পর্যায়ে সম্প্রসারণ ও উহা বাস্তবায়ন নিশ্চিতকরণ এবং বর্তমানে সংরক্ষিত ও

     ভবিষ্যতে সংগৃহিতব্য সকল রেশম পোকার জাত সংরক্ষণ নিশ্চিতকরণ;

৩.  তুঁত, ভেরেন্ডা ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য উদ্ভিদের উন্নতজাতের চাষাবাদের পদ্ধতি উদ্ভাবন;

৪.   উন্নতজাতের সুস্থ পলুপোকার ডিম পালন, উদ্ভাবন ও বিতরণ;

৫.  রেশম গুটি হইতে সুতা আহরণ এবং কাঁচা রেশমের মান উন্নত ও উৎপাদন বৃদ্ধি প্রয়োজনে সকল কাঁচা রেশম যথাযথভাবে যন্ত্রপাতি   

     সজ্জিত স্বয়ংসম্পূর্ণ সিল্ক কন্ডিশনিং হাউস এর মাধ্যমে পরীক্ষা ও গ্রেডিং করার পর বাজারজাতকরণের বাধ্যবাধকতার গ্রহণ;

৬.  চরকা রিলিং ও ফিলেচারে নিয়োজিত ব্যক্তিদিগকে কারিগরি পরামর্শ প্রদান;

৭.  কাঁচা রেশম ও রেশম পণ্যের মান উন্নয়ন;

৮.  রেশম চাষ ও রেশম শিল্পের উপর বিভিন্ন উপাত্ত সংগ্রহ ও গ্রন্থনা;

৯.  রেশম চাষ ও রেশম শিল্পের সহিত সংশ্লিষ্টদের ঋণদানের সুবিধাদি সৃষ্টি;

১০.  ন্যায্যমূল্যে রেশম শিল্পের প্রয়োজনীয় কাঁচামালসহ রং, রাসায়নিক দ্রব্যাদি, খুচরা যন্ত্রাংশ ও আনুষঙ্গিক দ্রব্যাদি সিল্ক রিলার, উইভার

     ও প্রিন্টারদেরকে সরবরাহের ব্যবস্থা;

১১. দেশে-বিদেশে রেশম ও রেশম সামগ্রী জনপ্রিয় ও বাজারজাতকরণের জন্য প্রচারের ব্যবস্থা;

১২. রেশম সামগ্রী রপ্তানী করিবার জন্য রেশম সামগ্রীর মানোন্নয়নের সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি এবং সিল্ক রিলার, রিয়ারার, স্পীনার, উইভার

      এবং প্রিন্টাদেরকে প্রশিক্ষণদানের সুবিধা সুজন;

১৩. রেশম চাষ ও রেশম শিল্পে নিয়োজিত ব্যক্তিদের সাধারণ সুবিধার জন্য প্রকল্প প্রণয়ন, পরিচালনা বাস্তবায়ন;

১৪.  কাঁচা রেশম, স্পান সিল্ক ও রেশম পণ্য উত্পাদনের জন্য মিল স্থাপনের ব্যবস্থা গ্রহণ;

১৫.  সেস(cess) আদায়;

১৬.   উপরি-উক্ত কার্যাদি সম্পাদনের ক্ষেত্রে যেইরূপ প্রয়োজনীয় বা সুবিধাজনক হয় সেইরূপ আনুষঙ্গিক বা সহায়ক সকল বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ;

১৭. সরকার কর্তৃক আরোপিত রেশম উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট অন্য যে কোন দায়িত্ব পালন৷


Share with :

Share with :

Facebook Facebook