মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৮

বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশন

বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশন

ঐতিহাসিক পটভূমি

৯৫২ সালে ঢাকার অদূরে নারায়ণগঞ্জে বাওয়া জুট মিলস লি. স্থাপনের মধ্য দিয়ে এতদঅঞ্চলে পাটশিল্পের যাত্রা শুরু হয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পূর্বেই জুট মিলের সংখ্যা ৭৫ ছাড়িয়ে যায়।

১৯৭২ সালের ২৬শে মার্চ মহামান্য রাষ্ট্রপতির আদেশ নং P.O-27 (The Bangladesh Industrial Enterprises Nationalization Order, 1972) অনুযায়ী ব্যক্তিমালিকানাধীন ও পরিত্যক্ত পাটকলসহ সাবেক ইপিআইডিসি (East Pakistan Industrial Development Corporation) এর মোট ৬৭টি পাটকলের তদারকি, পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশন (বিজেএমসি) গঠিত হয়। ১৯৮১ সালে এর নিয়ন্ত্রণাধীন মিলের সংখ্যা দাঁড়ায় মোট ৮২টি।

সরকার ঘোষিত নীতি অনুযায়ী ১৯৮২ সালের পর ৩৫টি পাটকল বিরাষ্ট্রীয়করণ, ৮টি মিলের পুঁজি প্রত্যাহার এবং ১টি পাটকল (বনানী) ময়মনসিংহ পাটকলের সাথে একীভূত করার পর বিজেএমসির নিয়ন্ত্রণাধীন মিল সংখ্যা ৮২ থেকে কমে ৩৮টিতে দাঁড়ায়।

১৯৯৩ সাল থেকে বিশ্ব ব্যাংকের পাটখাত সংস্কার কর্মসূচির আওতায় সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে মোট ১১টি মিল বন্ধ/বিক্রয়/একীভূত করার ফলে এবং বিশেষ করে ২০০২ সালে আদমজী জুট মিলস বন্ধ হওয়ার পর বিজেএমসি চরম আর্থিক দূরবস্থার  সম্মুখীন হয়। ২০০৫-২০০৮ সালের দিকে খুলনা অঞ্চলের শিল্পনগরী হিসাবে পরিচিত খালিশপুর এলাকা মৃত নগরীতে পরিণত হয়। বিজেএমসি’র পাটকলগুলোতে ৩০-৪০ সপ্তাহের মজুরী এবং ৬-৭ মাসের বেতন বকেয়া পড়ে যায়।

পাটশিল্প ও শ্রমিক বান্ধব বর্তমান সরকার ২০০৯ সালে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর সরকারি তহবিল থেকে বিজেএমসি’র পাটকলগুলোর বকেয়া মজুরী এবং বেতন পরিশোধ করা হয়। পূর্বে বন্ধ ঘোষিত ২টি জুট মিল খালিশপুর জুট মিলস লি. ও জাতীয় জুট মিলস লি. ২০১১ সালে নতুন নামে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয় এবং ২০১৩ সালে ৩টি জুট মিলের পুনরোৎপাদন শুরু করা হয়। মিলগুলো চালু হওয়ায় বিপুল সংখ্যক লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয় এবং এলাকাবাসীদের মাঝে নব উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়। বর্তমানে বিজেএমসি’র নিয়ন্ত্রণাধীন মিলের সংখ্যা ২৯ টি।

বিজেএমসি’র ভিশন, মিশন ও কৌশল

     ভিশন (Vision)         

  • বিজেএমসি-কে একটি স্বাবলম্বী ও লাভজনক প্রতিষ্ঠানে উন্নীতকরণ।

মিশন (Mission)

  • স্থানীয় কাঁচাপাট ব্যবহার করে সর্বোৎকৃষ্ট প্রচলিত ও বহুমুখী পাটপণ্য উৎপাদন করা।
  • পাটের ন্যায্য মূল্য প্রাপ্তিতে কৃষককে সহায়তা করা।
  • বিশ্ব বাজার অনুসন্ধান ও সম্প্রসারণ করা।
  • বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা।
  • পণ্যের মোড়কীকরণে পাটপণ্যের বাধ্যতামুলক ব্যবহার আইন, ২০১০ এর আওতায় পাটপণ্যের স্থানীয় বাজার সম্প্রসারণ করা।
  • সিনথেটিক পণ্য বর্জন এবং পরিবেশ বান্ধব প্রাকৃতিক পাটপণ্য ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করা।
  • পাট ও পাটশিল্পের উন্নয়ন এবং পাটনীতি ও কৌশল প্রণয়ন, বাস্তবায়নে সরকারকে সহায়তা করা ও প্রয়োজনীয় সুপারিশ করা।
  • শ্রমিক, কর্মচারী এবং কর্মকর্তাদের প্রাপ্য আর্থিক এবং অন্যান্য সুবিধাদি নিশ্চিত করা।

কৌশল ও উদ্দেশ্য (Strategy & Objective)

 () কৌশলগত সাধারণ উদ্দেশ্য

১. ন্যায্য মূল্য প্রদানের লক্ষ্যে কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি কাঁচাপাট ক্রয়;

২. স্থানীয় ও বৈদেশিক বাজারের চাহিদা অনুসারে পাটজাত পণ্য উৎপাদন;

৩. পাটজাত পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ ও বাজারজাতকরণ;

৪. মানবসম্পদ উন্নয়ন;

৫. প্লান্ট ও মেশিনারীজ কার্যক্ষম রাখা এবং উৎপাদন ক্ষমতার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা;

৬.আর্থসামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখা।

() কৌশলগত আবশ্যিক উদ্দেশ্য

          ১. দক্ষতার সঙ্গে বার্ষিক কর্মসম্পাদন চুক্তি বাস্তবায়ন;

            ২. দক্ষতা ও নৈতিকতার উন্নয়ন;

            ৩. তথ্য অধিকার ও স্বত:স্ফূর্ত তথ্য প্রকাশ বাস্তবায়ন;

             ৪. কার্যপদ্ধতি ও সেবার মানোন্নয়ন;

             ৫. আর্থিক ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন।

বিজেএমসি’র প্রধান কার্যাবলী

রাষ্ট্রীয় এ ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বের সর্ববৃহৎ পাটপণ্য উৎপাদনকারী এবং রপ্তানিকারী প্রতিষ্ঠান। বিজেএমসি’র মূল লক্ষ্য হল সময়মত পাটক্রয়ের মাধ্যমে পাটজাত পণ্য উৎপাদন করা, উৎপাদিত পণ্য স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রয় করা এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখা। এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে সরকারি প্রতিষ্ঠান হিসাবে বিজেএমসি বিভিন্ন সামাজিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি পাটের ন্যায্য মূল্য প্রাপ্তিতে কৃষককে সহায়তা প্রদান, পণ্যের উৎপাদন খরচ হ্রাস, প্রতিটি সেক্টরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করণ এবং কাজের গতিশীলতা বৃদ্ধির বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করছে।

বিজেএমসি’র পরিচালনা পর্ষদ

মহামান্য রাষ্ট্রপতির আদেশ নং ২৭, ১৯৭২ অনুযায়ী বিজেএমসি-র পরিচালনা পর্ষদে ১ জন চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার) এবং অনুর্ধ্ব ৫ জন পরিচালক (যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার) থাকার বিধান রয়েছে। বিজেএমসি-তে কর্মরত পরিচালনা পর্ষদের সদস্যগণ নিম্ন কাঠামো অনুযায়ী নিয়োজিত হয়ে বিজেএমসি-র কর্মকান্ড পরিচালনা করছেন।

পদবী

দায়িত্ব

চেয়ারম্যান

করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসাবে সার্বিক দায়িত্ব

পরিচালক (উৎ ওপাট)

পণ্য উৎপাদন ও কাঁচাপাট সংগ্রহ

পরিচালক (বিপণন)

রপ্তানী ও স্থানীয় বিক্রয় এবং বাজার উন্নয়ন পরিচালনা

পরিচালক (গমানি)

গবেষণা ও মান নিয়ন্ত্রণ

পরিচালক (অর্থ)

অর্থ ও হিসাব সম্পর্কিত কার্যাদি পরিচালনা

পরিচালক (পরিকল্পনা)

পরিকল্পনা, প্রশিক্ষণ, রক্ষণাবেক্ষণ, যন্ত্র ও যন্ত্রাংশ আমদানী

সচিব

চেয়ারম্যান মহোদয়ের নির্দেশক্রমে নির্বাহী ক্ষমতার প্রয়োগ ও বাস্তবায়নের নিমিত্ত সাচিবিক/প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করা।

                          

                                     বিজেএমসির পরিচালনা পর্ষদের সদস্যগণ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ

 

এন্টারপ্রাইজ বোর্ড

মিলসমূহের কার্যক্রম তদারকির জন্য প্রতিটি মিলে একটি এন্টারপ্রাইজ বোর্ড আছে। বিজেএমসি’র পরিচালকমন্ডলির একজন পরিচালক উক্ত বোর্ডের সভাপতি। এছাড়া বিজেএমসি’র একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্র্রণালয়, অর্থ মন্ত্র্রণালয় ও অর্থলগ্নীকারী ব্যাংক-এর প্রতিনিধি, আঞ্চলিক সমন্বয়কারী ও সংশ্লিষ্ট মিল প্রধান  বোর্ডের পরিচালক। প্রতি তিন মাস অন্তর এই বোর্ডের সভায় মিলের কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হয় এবং সুষ্ঠুভাবে মিল পরিচালনার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়।

আঞ্চলিক দপ্তর

 

মিলের কার্যক্রম মনিটরিং করার নিমিত্তে বিজেএমসি’র মিলসমূহকে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনা এই তিনটি অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে। অঞ্চল সমূহের দায়িত্বে রয়েছেন একজন করে লিয়াজো কর্মকর্তা । লিয়াজো কর্মকর্তা প্রধান কার্যালয় এবং মিলসমূহের সমন্বয়সহ সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের মিলসমূহের তদারকিতে নিয়োজিত আছেন।

       বিজেএমসি নিয়ন্ত্র্রণাধীন পাটকল  মিল কারখানার সংখ্যা,  উৎপাদিত পণ্যের বিবরণ 

ক্রঃ নং

মিলের ধরণ

উৎপাদিত পণ্যের বিবরণ

মিল সংখ্যা

পাটকল/জুট মিল

হেসিয়ান, স্যাকিং, সিবিসি, বহুমূখী পাটপণ্য

২২টি

নন-জুট মিল

পাটকলের যন্ত্র ও যন্ত্রাংশ, সিবিসি’র জন্য পেপার টিউব, জুট ফাইবার গ্লাস সামগ্রী

৩টি

বন্ধ মিল (মামলাজনিত কারণে হস্তান্তর হয়নি)

 

১টি

সম্প্রতি  Take Back কৃত মিলের সংখ্যা

 

৩টি

মোট মিলের সংখ্যা=

২৯টি

 


Share with :

Share with :

Facebook Facebook